অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা না ফেরা নিয়ে নানা আলোচনার পর অবশেষে তিনি দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা নিজেও সাবিককে দেশে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ একদিন আগেও শোনা যাচ্ছিল দেশে ফিরছেন সাকিব।
এমন নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবুধাবি টি-টেন লিগে সাকিবের দল বাংলা টাইগার্স তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। সাকিবের ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেওয়া সাকিবের বার্তাটা এমন ‘কেউ তাকে ভালোবাসুক কিংবা ঘৃণা করুক, সেটার পরোয়া নেই তার। কিন্তু তার সঙ্গে কেউ যেন খেলা না করেন।’
ওই ভিডিওতে সাবিককে ইংরেজিতে বলতে শোনা যায়, ‘মাই লাইফ মাই রুলস; মাই স্টাইল, মাই অ্যাটিটিউড- ইউ লাভ মি অর হেট মি; আই ডোন্ট কেয়ার। বাট ডোন্ট প্লে ইউথ মি।’ এর বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘আমার জীবন, আমার নিয়ম, আমার ধরণ, আমার মনোভাব- ভালোবাসুন কিংবা ঘৃণা করুন, পরোয়া করি না। কিন্তু আমাকে নিয়ে খেলবেন না।’
ঘরের মাঠে শেষ টেস্ট খেলতে সাকিবকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভের কারণে সাকিবের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে দেশে না আসতে নিরুৎসাহিত করেছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই আপাতত দেশে খেলতে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত (সাকিবকে) করে বিসিবিকে পরামর্শ দিতে হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার আশু ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
ভারত সফরে টেস্ট অবসরের ঘোষণা দেন সাকিব। বিদেশে ঘোষণা দিলেও ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান দেশের অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। তবে দেশের মাটিতে খেলতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি নির্বিঘ্নে দেশ ছাড়ার নিশ্চয়তাও চান সাকিব। গত জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচত হন তিনি। গত আগস্টে ছাত্র আন্দোলনে নিহত গার্মেন্টকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় নাম আসে সাকিবের, তাকে ২৮ নম্বর আসামি করা হয়। ছাত্র আন্দোলনে নিরব ভূমিকায় থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত হয়ে আসছেন তিনি।

0 Comments